৬৪ জেলায় সরকারি খরচে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ শুরু বেকারদের জন্য বড় সুখবর

ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে দেশের তরুণ সমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার আবারও বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।

দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত বেকার যুবকদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে তিন মাসের একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই এই কার্যক্রম দেশজুড়ে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির লক্ষ্য

এই উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণরা অনলাইন আয়ের বিভিন্ন দক্ষতা অর্জন করতে পারবে, যা তাদের আত্মনির্ভরশীল হতে সহায়তা করবে। দেশের প্রতিটি জেলায় সমানভাবে এই প্রশিক্ষণ পৌঁছে দেওয়ার ফলে ডিজিটাল কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

বুধবার (১ এপ্রিল) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়।

ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন ঘোষণা করেন মো. আমিনুল হক। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সরকারি কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ প্রায় পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণার্থী ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন। এই কর্মসূচি দেশের তরুণদের জন্য নতুন দক্ষতা অর্জন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকার তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন পথ খুলতে ফ্রিল্যান্সিং খাতকে বিশেষভাবে সমর্থন করছে। প্রযুক্তিভিত্তিক এই খাতে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশের যুবসমাজ ঘরে বসে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করতে সক্ষম হচ্ছে।

প্রকল্পের লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৩৭৩ কোটি টাকারও বেশি বাজেটে দেশের ৩৬ হাজার তরুণ-তরুণীকে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ইতোমধ্যেই এই উদ্যোগের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে দেশের প্রতিটি জেলায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে।

এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে যুবসমাজকে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতায় সজ্জিত করে স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য সুযোগ

বর্তমান ব্যাচে দেশের ৬৪টি জেলায় মোট ৪,৮০০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করছেন, যেখানে প্রতি জেলায় ৭৫ জন করে নির্বাচিত হয়েছেন। এই প্রশিক্ষণার্থীদের বাছাই করা হয়েছে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এবং ন্যূনতম এইচএসসি পাশ করা যুবকদের মধ্যে।

বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় যে, এই ব্যাচে ভর্তির জন্য প্রায় এক লাখের মতো আবেদন জমা পড়েছিল, যা দেশের তরুণদের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের প্রতি উচ্চ আগ্রহকে প্রতিফলিত করছে।

প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু ও সময়কাল

তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে মোট ৬০০ ঘণ্টার কোর্স অনুষ্ঠিত হবে। বিষয়গুলো হলো:

  • কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন
  • ফ্রিল্যান্সিং
  • ডিজিটাল মার্কেটিং
  • গ্রাফিক্স ডিজাইন
  • ভিডিও এডিটিং
  • সফট স্কিল

প্রশিক্ষণার্থীরা বাস্তব জীবনে এই দক্ষতাগুলো প্রয়োগ করতে পারবে।

ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড প্রশিক্ষণার্থীদের অগ্রগতি ও আয় সংরক্ষণের জন্য কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ পরিচালনা করছে। এখন পর্যন্ত পাঁচটি ব্যাচে ১৪,৪০০ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন, যার প্রায় ৬০% দেশি ও আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে কাজ শুরু করেছেন এবং তাদের আয় কোটি টাকার ঘর ছাড়িয়েছে।

এই প্রোগ্রামে প্রশিক্ষণার্থীদের সুবিধার জন্য যাতায়াত ভাতা, খাবার এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে। কোর্স সম্পন্ন হওয়ার পর সরকারি সনদপত্র প্রদান করা হবে, যা ভবিষ্যতে চাকরি ও ক্যারিয়ার গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকার তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন পথ খুলতে ফ্রিল্যান্সিং খাতকে বিশেষভাবে সমর্থন করছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ:

  • দেশের যুবসমাজকে দক্ষ করে তোলে
  • বেকারত্ব কমায়
  • বৈদেশিক আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক

উপসংহার

ফলস্বরূপ, দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ চালু করা এই উদ্যোগকে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

আরও পড়ুন–PayPal বাংলাদেশে চালু হচ্ছে: সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

➜ নতুন তথ্য পেতে –
ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

✍️ যদি লেখার মধ্যে ভাষাগত কোনো ভুল বা ত্রুটি থাকে, তবে দয়া করে সহনশীল ও সুন্দর দৃষ্টিতে গ্রহণ করবেন।

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন!

Leave a Comment